বাক্য ব্যবহৃত শব্দ বা শব্দগুলোর কারক চিহ্নিত করার জন্য শব্দের শেষে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বিভক্তি বলে। বাক্যস্থিত একটি শব্দের সাথে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সাথে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদেরকে বিভক্তি বলে। বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। যেমন: লোকে কি না বলে! সে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গরু চরাতে গেছে। বাড়ির পুকুরের পাড়ে বড়ো ভাইয়ের কলাবাগান।
ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। এ বাক্যটিতে ছাদে (ছাদ+এ বিভক্তি), মা (মা+০ বিভক্তি), শিশুকে (শিশু+কে বিভক্তি), চাঁদ (চাঁদ+০ বিভক্তি) ইত্যাদি পদে বিভিন্ন বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বিভক্তিগুলো ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
বিভক্তি প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
ক. নাম বা শব্দ বিভক্তি,
খ. ক্রিয়া বিভক্তি।
বাংলা শব্দ-বিভক্তি সাত প্রকার। যথা: প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী এবং সপ্তমী।
একবচন ও বহুবচন ভেদে বিভক্তিগুলোর আকৃতিগত পার্থক্য দেখা যায়। যেমন:
বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| প্রথমা | ০, অ, এ, তে, এতে | রা, এরা, গুলি, গণ, বৃন্দ |
| দ্বিতীয়া | কে, রে | দিগকে, দিগরে |
| তৃতীয়া | দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক | দিগকে দ্বারা, দিগ কর্তৃক |
| চতুর্থী | কে, রে, জন্য, নিমিত্ত | দিগেকে, দিগেরে, দের তরে |
| পঞ্চমী | হতে, থেকে, চেয়ে | দিগ হতে, দের থেকে, দিগের চেয়ে |
| ষষ্ঠী | র, এর | দিগের, দের |
| সপ্তমী | এ, য়, তে | দিগে, দিগেতে |
বিভক্তি যোগের নিয়ম:
১. অপ্রাণী বা ইতর প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে 'রা' যুক্ত হয় না; গুলি, গুলো যুক্ত হয়। যেমন- পাথরগুলো, গরুগুলি।
২. অপ্রাণিবাচক শব্দের উত্তরে 'কে' বা 'রে' বিভক্তি হয় না, শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন- কলম দাও।
৩. স্বরান্ত শব্দের উত্তর 'এ' বিভক্তির রূপ হয়- 'য়' বা 'য়ে'। 'এ' স্থানে 'তে' বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে। যেমন-মা+এ = মায়ে, ঘোড়া+এ = ঘোড়ায়, পানি+তে = পানিতে ইত্যাদি।
৪. অ-কারান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত শব্দের উত্তর প্রায়ই 'রা' স্থানে 'এরা' হয় এবং ষষ্ঠী বিভক্তির 'র' স্থলে 'এর' যুক্ত হয়। যেমন-লোক+রা = লোকেরা, বিদ্বান (ব্যঞ্জনান্ত) রা = বিদ্বানেরা, মানুষ+এর = মানুষের ইত্যাদি।
৪. অ-কারান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত শব্দের উত্তর প্রায়ই 'রা' স্থানে 'এরা' হয় এবং ষষ্ঠী বিভক্তির 'র' স্থলে 'এর' যুক্ত হয়। যেমন-লোক+রা = লোকেরা, বিদ্বান (ব্যঞ্জনান্ত) রা = বিদ্বানেরা, মানুষ+এর = মানুষের ইত্যাদি।
নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণের নতুন সিলেবাস অনুসারে, বিভক্তিগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. এ, তে, য়, য়ে বিভক্তি:
- সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে এ. তে, য়, য়ে বিভক্তি যুক্ত হয়। কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে।
- যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: সকালে, দিনাজপুরে, ই-মেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি।
- শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে-তে বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে, রামুতে ইত্যাদি।
- আ-কারান্ত শব্দের শেষে য় বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি।
- শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে-য়ে বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে ইত্যাদি।
- ই-কারান্ত শব্দের শেষেওয়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন: ঝিয়ে, ঘিয়ে।
খ. কে, রে বিভক্তি:
বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত কে এবং-রে বিভক্তি বসে। ক্রিয়াকে 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে শব্দ পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: শিশুকে, দরিদ্রকে, আমাকে, আমারে ইত্যাদি।
গ. র, এর, য়ের বিভক্তি:
বাক্যের মধ্যে পরবর্তী শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বোঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে-র, -এর এবং-য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়।
- সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে-র বিভক্তি বসে। যেমন: রাজার, প্রজার, হাতির, তনুর, বধূর, বুদ্ধিজীবীর ইত্যাদি।
- যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের শেষে -এর বিভক্তি হয়। যেমন: বলের, শব্দের, নজরুলের, সাতাশের।
- শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে-য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: ভাইয়ের, বইয়ের, লাউয়ের, মৌয়ের ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more